1. dev@desher.news : Admin : desher news
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫৬ অপরাহ্ন

আজ ২৩ শে আগস্ট দাস বানিজ্য স্মরন ও বিশ্ব রদ দিবস।

অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১

মানব ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায়ের নাম দাসপ্রথা। আধুনিক সময়ে যত অদ্ভুত-ই শোনাক না কেন, এক সময় মানুষের ঘরে ‘মানুষ’ দাস থাকবে এটাই ছিল স্বাভাবিক। কলঙ্কময় সেই সময়গুলিতে সমাজে দাসপ্রথা ছিল সাধারণ একটি বিষয়। বিশেষ করে বিত্তশালীদের আভিজাত্যের পরিচয় তুলে ধরতে সাহায্য করত ক্রীতদাসের সংখ্যা। দাসদেরকে তখন ‘মানুষ’ হিসেবেই গণ্য করা হতো না। যখন-তখন দাসকে কেনা-বেচা করা যেতো। প্রাণে মেরে ফেললেও কোনো ধরণের বিচারের সন্মুখিত হতে হতো না মালিককে। দাসপ্রথার এসব করুণ ইতিহাস বিশ্বের সব মানুষকে জানানোর জন্য পালন করা হয় আন্তর্জাতিক দাস বাণিজ্য স্মরণ ও রদ দিবস। বিশেষ এই দিবসের মাধ্যমে আরো স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় দাসব্যবসার করুণ পরিণতির বিষয়টিও। দাসপ্রথাকে এখন আমরা অমানবিক মনে করি। কিন্তু এটি এক সময় বিশ্বের প্রায় সব জায়গাতেই স্বাভাবিক একটি বিষয় হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। এই দাসপ্রথাকে উচ্ছেদ করতে গিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধ বেঁধে গিয়েছিল। সেই যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে দাসপ্রথার বিলোপ ঘটিয়ে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন সারা বিশ্বের অসংখ্য নিপীড়িত মানুষের শ্রদ্ধা পেয়েছিলেন। যে সময়ে দাসপ্রথার প্রচলন ছিল তখন একজন দাসের কোনো অধিকার ছিল না। সে ছিল মালিকের সম্পত্তি। বিনা পারিশ্রমিকে একজন দাসকে আমৃত্যু কাজ করে চলতে হতো। দাসের সন্তানও দাস বলে গণ্য হতো। সে সময় অনেকে ঋণগ্রস্থ হয়েও দাসত্ব বরণ করতো। যুদ্ধে পরাজিত হয়েও অনেক সময় বেছে নিতে হতো দাসের জীবন। মালিক বিশেষ কোনো কারণে মুক্তি না দিলে একজন দাসের স্বাধীন হবার কোনো উপায় ছিল না। প্রাচীন বাংলাসহ ভারত উপমহাদেশেও দাসপ্রথার প্রচলন ছিল। ইংরেজ আমল পর্যন্ত এদেশে দাসবাণিজ্য চলেছে। তবে বিশ্বব্যাপী দাসবাণিজ্যের বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল আফ্রিকান নিগ্রো দাসের। প্রচন্ড শক্তি ও সুঠাম দেহ-ই সেযুগে নিগ্রোদের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়। তখন বিপুল সংখ্যক নিগ্রোদের জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া হতো। তাদের বেশিরভাগকে বিক্রি করে দেওয়া হতো ইউরোপের বাজারে। দাস পরিবহনের জন্য তখন বেশি ব্যবহার করা হতো জলপথ। জাহাজে গাদাগাদি করে দাসদের নিয়ে যাওয়া হতো ভিন্দেশে। বদ্ধ ও গুমোট পরিবেশের কারণে অসংখ্য দাস মৃত্যুবরণ করতো। অসুস্থ হলে চিকিৎসা তো জুটতোই না বরং সন্দেহজনক রোগে আক্রান্ত হলে মহামারীর ভয়ে দাসকে ফেলে দেয়া হতো সমুদ্রের পানিতে। ধারণা করা হয় ৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন আফ্রিকান এই ট্রান্স-আটলান্টিক বানিজ্যের বলি হয়েছিলেন। দাস ব্যবসা মারাত্মক আকার ধারণ করে ১৬০০ থেকে ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। এ সময় বিপুল সংখ্যক আফ্রিকানকে দাস হিসেবে আমেরিকায় নিয়ে আসা হয়। এ গণ-দ্বীপান্তর ও দাস ব্যবসাকে মানবসভ্যতার অন্যতম মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে গণ্য করা হয়। ১৭৯১ সালের ২২ ও ২৩শে আগস্ট রাতে হাইতি ও ডোমিনিকিান প্রজাতন্ত্রে যে বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল সেটাই দাস প্রথা বিলুপ্তির পথে মানব সভ্যতাকে এগিয়ে দেয়। ১৮০৭ সালে ব্রিটেনে দাস প্রথা নিষিদ্ধ হয়। রাশিয়ায় হয় ১৮৬১ সালে। এর চার বছর পর অর্থাৎ ১৮৬৫ সালে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রেও বিলুপ্তি ঘটে দাস প্রথার। আন্তর্জাতিক দাস বাণিজ্য স্মরণ ও রদ দিবস পালনের ঘোষণা দিয়ে ইউনেস্কো সারা বিশ্বে বিশেষ এই বিষয়টি নিয়ে স্মৃতিচারণের সুযোগ করে দেয়। দিবসটি সর্বপ্রথম উদযাপন করা হয় হাইতিতে, ১৯৯৮ সালে। তারপরের বছর এটি সেনেগালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাপন করা হয়। এখন এটি একটি আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে পালন করা হয়। আন্তর্জাতিক দাস বাণিজ্য স্মরণ ও রদ দিবসে যেসব মানুষ এই ঘৃণ্য দাস ব্যবসা ও দাসত্ব থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করতে শ্রম দিয়েছেন তাদেরকে স্মরণ করতে পারি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Theme Developed BY : Sky Host BD