1. dev@desher.news : Admin : desher news
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন

প্রান ফিরছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে।

নুর আলম সিদ্দিক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১

দীর্ঘ সাড়ে চার মাস বন্ধ থাকার পর আবারও পর্যটকের পদভারে মুখরিত বিশ্বের দীর্ঘতম কঙবাজার সমুদ্র সৈকত। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চলেছে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা। আর এরই মাঝেই সমুদ্র স্নান, সৈকতের বালিয়াড়িতে দৌঁড়ঝাপসহ নানা আনন্দমুখর সময় পার করেছেন পর্যটকেরা। তবে সৈকত উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রথম দিন লোকসমাগম একটু কম হলেও আজ শুক্রবার থেকে পর্যটকের ভীড় আরও বাড়বে এমন আশাবাদ পর্যটন ব্যবসায়ীদের। বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটায় সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে পর্যটকদের আনন্দমুখর সময় পার করতে দেখা যায়। পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মত। যে যার মত করে উপভোগ করছেন সমুদ্র সৈকতকে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসন এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে মাস্ক পরা এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে বার বার মাইকে দেওয়া হচ্ছিল তাগাদা।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সুগন্ধা পয়েন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে সৈকতে প্রবেশের দ্বার খুলে দেন জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ। এসময় তিনি জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে মাস্ক বিতরণ করেন এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালান। কুমিল্লা থেকে সপরিবারে বেড়াতে আসা সুপ্রিয়া বিশ্বাস জানান, অসাধারণ একটা জায়গা কক্সবাজার। এখানে আসলে মনটা এমনিতেই ভাল হয়ে যায়। তাই কে না চান কঙবাজার আসতে। নগরীর চকবাজার এলাকার বাসিন্দা লোকমান হাকিমও সমুদ্র ভ্রমণে আসেন পরিবারের সবাইকে নিয়ে। তিনি বলেন, ঘরবন্দী থাকতে থাকতে ছেলে-মেয়েরা অস্বাভাবিক
আচরণ করা শুরু করেছে। তাই অনেকদিন ধরে ভাবছি তাদের নিয়ে বাইরে কোথাও যাব। কাছের শহর কঙবাজারে ছুটে এলাম। কঙবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার চৌধুরী মিজানুজ্জামান জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। তবে এখন যেহেতু করোনাকাল আমাদের প্রধান শর্ত মাস্ক পরতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে ভ্রমণ করতে হতে। এসব স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে পর্যটকদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতেও ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এদিকে সৈকত উন্মুক্ত করার প্রথম দিন থেকে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে যে যার মত করে প্রস্ততি সম্পন্ন করেছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। কলাতলী পর্যটনজোনের হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে সাজানো হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার পর সৈকতের নানা পেশার হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ফিরেছে নিজেদের প্রাণের প্রতিষ্ঠানে। সবার মাঝে আবারও বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। তবে সরকারের নির্দেশনা ৫০ শতাংশের ওপরে কক্ষ ভাড়া দিতে পারবেনা হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসগুলো। রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও একই নিয়ম মেনে চলতে হবে। পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়ায় খুশি ব্যবসায়ী নেতারাও।

কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস মালিক সমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, গত দেড় বছরে এখানকার প্রায় ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল, কটেজ ও গেস্টহাউস, সাত শতাধিক রেস্তোরাঁ, দুই হাজারের মতো নানান পণ্যের দোকান-পাট কয়েক কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। অন্তত সেই ক্ষতির কিছুটা হলেও পুষিয়ে আনার চেষ্ঠা চালানো হবে। জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সৈকতসহ পর্যটনকেন্দ্র খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। এতে হোটেল-মোটেলগুলো ৫০ ভাগ কক্ষ ভাড়া দিতে পারবে। রেস্তোরাঁ, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে একই নিয়ম মানতে হবে। এর ব্যতয় ঘটলেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আমরা পর্যটকদের বলব তারা যেন অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক মেনে ভ্রমণ করেন, যোগ করেন মামুনুর রশীদ।
উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল থেকে করোনা সংক্রমণ রোধে কঙবাজার সমুদ্র সৈকতসহ বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। দীর্ঘ চার মাস ১৮ দিন বন্ধ রাখার পর গতকাল ১৯ আগস্ট পর্যটকদের জন্য উম্মুক্ত করা হয়েছে দেশের প্রধান এই পর্যটনকেন্দ্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Theme Developed BY : Sky Host BD