1. milon@desher.news : Milon :
  2. shahriar@desher.news : Shahriar :
মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ১০:২১ অপরাহ্ন

বিজ্ঞাপন

হরতালে দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের বিক্ষোভ, নিহত ৩

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১

রাজশাহী প্রতিনিধি ইফতেখার আলম জানান, রোববার সকালে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পীরবাড়ি-পৈরতলা এলাকায় বিক্ষুদ্ধ মাদ্রাসা ছাত্ররা অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ প্রর্দশন করে। এ সময় তাদের সাথে সড়কে পুলিশের ব্যাপক সংর্ঘষ সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে শহরের ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন, জেলা পরিষদ ভবন, ভূমি অফিস, পৌরসভা ভবন-মিলনায়াতন, গণ গ্রন্থাগারসহ আরো বেশ কয়েকটি স্থানে ভাংচুরসহ অগ্নিসংযোগ করেন। গতকাল দুপুরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয় ও জেলা ছাএলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় বিক্ষুদ্ধরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিনের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাজশাহী সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুর রউফ বলেন, গতকাল সকালে ট্রাক টার্মিনালের ভেতর পার্কিংয়ে রাখা দুটি বাসের মধ্যে একটিতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। একটি বাসের পুরোটাই পুড়ে গিয়ে অন্যটিতেও আগুন ধরে। এতে দ্বিতীয় বাসটি আংশিক পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তারা আধাঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। প্রতিনিধি তৌহিদুর নিটল জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতাল বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে আহত অবস্থায় নিয়ে আসার পর গুলিবিদ্ধ দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে শনিবার গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূরুল আমিন নামের একজন মারা গেছেন। নিহতরা হলেন, সরাইল উপজেলা সুফি আলীর ছেলে আল আমিন (১৯) ও অজ্ঞাত পরিচয়ের আরেক যুবক।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক শওকত হোসেন। এ নিয়ে শুক্রবার থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৯জনে দাঁড়ালো। হরতালের শুরুতে সকাল থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী ও মাদরাসা ছাত্ররা সহ বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পুলিশের সাথে মাদরাসা ছাত্রদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুপুরের দিকে বিক্ষোভকারিরা হাসপাতাল রোডে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে ঢুকে হামলা করে। এসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামিকে মারধোর করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন জানান, অতর্কিত ভাবে প্রেসক্লাবে হামলা করা হয়। হামলাকারিরা প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামির ওপর হামলা করে। এদিকে, শহরের জেলরোডে উপজেলা ভূমি অফিসে ফুলবাড়িয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের বাসভবনে, ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল স্কুলে ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত ভাষা চত্বরে, পৌর সভায়, জেলা পরিষদ, দক্ষিণ মৌড়াইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেলের বাড়িতে, সরকারপাড়ায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভনের বাড়িতে এসময় তারা ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল স্কুলে ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত ভাষা চত্বরে, পৌর সভায়, জেলা পরিষদ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেলের বাড়িতে ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, ব্যাংক এশিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও আনন্দময়ী কালি বাড়িতে হামলা করে। এসময় বিক্ষোভকারীরা প্রধান প্রধান সড়কে আগুন জ্বালিয়ে, গাছ ও খুটি ফেলে অবরোধ করে। পুলিশের সাথে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল ছুড়ে। এসব গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত সহ ১৫জনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হোসেন রেজা বলেন, জনগণের জানমালের রক্ষায় আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। নারায়ণগঞ্জ থেকে মনজুরে অনিক জানান, সাইনবোর্ড ও সানাড়পাড় এলাকায় হরতাল সমর্থদের সাথে পুলিশের ধফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকাল ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড ও সানারপাড় এলাকায় পুলিশ হরতাল সমর্থকদের সরিয়ে দিতে চেষ্টা করে। এ সময় হরতাল সমর্থকদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে হরতাল সমর্থকরা আইন শৃংখলাবাহিনীর উপর বৃষ্টির মত ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে টিয়ার শেল ও শট গানের গুলি ছুড়েছে। এ সময় সানাড়পাড় এলাকায় শাকিল (৩২) নামে ১ জন গুলিবিদ্ধসহ ৫ জন আহত হয় বলে স্থানীয়রা জানান। গুলিবিদ্ধ শাকিলসহ গুরুতর আহত অবস্থায় শফিকুল (৫৩) নামে এ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে হেফাজত সমর্থকরা মহাসড়কের পাইনাদি এলাকায় ১০ তলা কুয়েতপ্লাজা ভবনের সামনে একটি বাস, একটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি ট্রাকে আগুন দেয়। সরজমিনে দেখা গেছে, হরতালের সমর্থনে হেফাজতের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। তারা সাইনবোর্ড, সানাড়পাড়, মৌচাক, পাইনাদি এলাকায় ১০ তলা কুয়েতপ্লাজা ভবন ও মাদানিনগর মাদ্রাসার সামনে, শিমরাইল ইউটার্ন এলাকায় লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন। সড়কের কয়েকটি স্থানে টায়ার, গাছের গুঁড়ি, বাঁশ, কাঠ, চৌকি, বেঞ্চসহ বিভিন্ন আসবাবপত্রে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এবং মহাসড়কের যানবাহন চলাচলে বাধা দেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। হেফাজতের সকাল সন্ধ্যা হরতালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। হেফাজতের ডাকা হরতাল শান্তিপূর্ণ ভাবে চলছে। ছোট যান ছাড়া দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল করেনি। হেফাজতের কর্মী সমর্থকমাদ্রাসা ছাত্ররা বড় ধরনের মিছিল মিটিং করতে দেয়নি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। হরতালে কিছু দোকানপাট খোলা ছিল। বিশেষ করে পৌর সদর, মেখল ইছাপুরবাজার, মুফতি ফয়েজ উল্লাহ সড়কে যানচলাচলে কিছুটা বাধা দিলেও পরে তা স্বভাবিক হয়ে আসে। এছাড়া হাটহাজারী এলাকায় মাদ্রাসার ছাত্ররা রেললাইনের স্লিপার তুলে ফেলায় নাজিরহাট লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ-র‌্যাবের পাশাপাশি মাঠে রয়েছেন বিজিবি নগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পিকেটার-শ্রমিক-ছাত্রলীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বেলা পৌনে ১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের ৫ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হেফাজতের মোড়কে পিকেটিং এবং সংঘর্ষ তৈরি করে বলে জানায় পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর থেকে কোর্টপয়েন্টসহ সকল জায়গায় ঢিলেঢালা পিকেটিং চলছিলো। হেফাজতের নেতাকর্মীরা কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান নিলেও নিরুত্তাপ ছিলো কোর্ট পয়েন্ট এলাকা। এমনকি সকাল ১১ টার দিকে তাদের সরিয়েও দিয়েছিলো পুলিশ। বেলা ১২ টার দিকে বেশ কিছু যুবক এসে প্রথমে পিকেটিং শুরু করেন। যার অধিকাংশই ছাত্র শিবিরের কর্মী। হেফাজতের মোড়কে তারা পিকেটিং শুরু করে উত্তাপ ছড়ানোর চেষ্টা করেন। সময়ে সময়ে তাদের সাথে যুক্ত হন হেফাজতের অসংখ্য কর্মী-সমর্থক। এমন অবস্থায় উত্তপ্ত হয়ে উঠে কোর্টপয়েন্টসহ আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে হরতাল বিরোধী মিছিল বের করলে পিকেটারদের সাথে সংঘর্ষ হয়।
এমন সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা পিকেটারদের ধাওয়া দিলে পিকেটাররা কালীঘাটের দিকে পালিয়ে যান। পিছু নেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এসময় সময় ইটপাটকেল পড়ে কালীঘাটের একজন শ্রমিকের ওপর। তৈরি হয় ত্রিমুখী সংঘর্ষ। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সম্পাদনা : ভিক্টর রোজারিও

বিজ্ঞাপন

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর...

বিজ্ঞাপন

মাহে রমজানের সাহরী ও ইফতারের সময়সূচী::

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Theme Customized BY LatestNews